ক্যান্সার এর মতো রোগের প্রতিরোধক প্রাকৃতিক এই নির্জাস,যা আমরা জানিই না।
মাছ ও গরুর মাংসের তুলনায় ৩ গুণ এবং ডিমের তুলনায় ৬ গুণ বেশি প্রোটিন রয়েছে। সয়াবিনের তুলনায় ২ গুণ বেশি মিনারেল রয়েছে। আটার চেয়ে ৪ গুণ বেশি ফাইবার বা খাদ্য আঁশ রয়েছে। এতে গাজরের তুলনায় ৫ গুণ ও পালং শাকের তুলনায় ৪০ গুণ বেশি ক্যারোটিন রয়েছে। দুধের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম রয়েছে। এতে পালং শাকের তুলনায় ৬৫ গুণ বেশি এবং গরুর মাংসের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি আয়রন থাকে।
ওজন কমাতে সহায়কঃ এটি ক্ষুধা কমাতে সহায়তা করে এবং প্রাকৃতিকভাবে ওজন কমাতে সহায়ক।
মায়ের দুধ উৎপাদনেঃ স্পিরুলিনা মায়েদের দুধ উৎপাদনে সহায়ক, কারণ এতে থাকা প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন সমূহ দুধের মান এবং পরিমাণ উভয়ই বৃদ্ধি করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে স্পিরুলিনা সেবন করলে মায়েদের দুধ উৎপাদন ২৫-৩০% বৃদ্ধি পায়।
অস্বাস্থ্যকর পিরিয়ডঃ স্পিরুলিনা পিরিয়ডের সময় শরীরে আয়রন এবং পুষ্টি সরবরাহ করে, যা রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং শক্তি ও ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন বায়োডেটি প্রদাহ কমিয়ে শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষ অফারে অর্ডার করলে সারা বাংলাদেশে ডেলিভারি চার্জ ফ্রী
সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলি
স্পিরুলিনা কী?
স্পিরুলিনা একটি নীলাভ-সবুজ শৈবাল। এটি সাধারণত পানিতে জন্মে। তবে সামুদ্রিক শৈবাল হিসেবেই এটি বেশি পরিচিত। স্পিরুলিনা নামটি নেয়া হয়েছে মূলত ল্যাটিন শব্দ Spira থেকে। যার অর্থ সর্পিলাকার বা পাকানো। কারণ স্পিরুলিনা দেখতে সর্পিলাকারের হয়ে থাকে। এটি সাধারণত সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে থাকে।
স্পিরুলিনার খাদ্যগুণ কি?
১/ গবেষকদের মতে , ১০০ গ্রাম স্পিরুলিনায় ৩৭৪ কিলোক্যালরি শক্তি রয়েছে।
২/ ১০০ গ্রাম স্পিরুলিনার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই প্রোটিন।
৩/ এ ছাড়া এতে উচ্চমাত্রায় লৌহ, পটাশিয়াম, জিংক ও ক্যালসিয়াম রয়েছে।
৪/ বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, ১০০ গ্রাম স্পিরুলিনায় ৫৮২ গ্রাম কলিজার সমপরিমাণ লৌহ, তিনটি কলার সমপরিমাণ পটাশিয়াম, ৩৭৭ গ্রাম শাকের সমপরিমাণ জিংক ও ১১০ মিলিলিটার দুধের সমপরিমাণ ক্যালসিয়াম রয়েছে।
৫/ ফলে ২০০৮ সালে বিভিন্ন দেশের পুষ্টিহীনতা দূর করতে জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এক প্রতিবেদনেও স্পিরুলিনা ব্যবহারের সুপারিশ করেছে।
৬/ গবেষকরা বলছেন এই স্পিরুলিনা শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই খেতে পারেন।
স্পিরুলিনা সাধারণত কিসের কাজ করে?
স্পিরুলিনা সাধারণত শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করে। এটি একটি প্রাকৃতিক সুপারফুড, যা উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এর প্রধান কাজগুলো হলো: শক্তি বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা, এবং ডিটক্সিফিকেশন। এছাড়াও, এটি অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ এবং ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য উন্নতিতেও কার্যকর।
খাওয়ার নিয়ম কি?
স্পিরুলিনা খাওয়ার সঠিক নিয়ম নির্ভর করে এটি কোন ফর্মে (গুঁড়া, ট্যাবলেট, বা ক্যাপসুল) গ্রহণ করা হচ্ছে তার উপর। তবে সাধারণত খাওয়ার নিয়ম হলো:
১. গুঁড়া আকারে:
প্রতিদিন ১-২ চা চামচ (৩-৫ গ্রাম) গ্রহণ করা হয়।
এটি স্মুদি, জুস, বা পানিতে মিশিয়ে পান করা যায়।
সালাদ, স্যুপ, বা অন্যান্য খাবারে স্প্রিংকল করেও খাওয়া যায়।
২. ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল আকারে:
সাধারণত প্রতিদিন ৫০০ মিগ্রা থেকে ২ গ্রাম পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়।
খালি পেটে বা খাবারের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে।
কোন সময়ে খাব??
খাওয়ার সময়:
সকালে খেলে শরীর সারাদিনের জন্য শক্তি পায়।
ওয়ার্কআউটের আগে খেলে এটি শক্তি বাড়াতে সহায়ক।
কোন ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা লাগবে কি?
সতর্কতা:
শুরুতে কম পরিমাণে (প্রথম সপ্তাহে ১ গ্রাম) শুরু করুন এবং পরে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ান।
পানি বেশি করে পান করুন, কারণ এটি ডিটক্স প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
যাদের কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা বা অ্যালার্জি রয়েছে, তারা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এটি গ্রহণ করুন।
স্পিরুলিনা খাওয়ার আগে প্যাকেটের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত, কারণ বিভিন্ন ব্র্যান্ডে মাত্রার ভিন্নতা থাকতে পারে।